মুহাম্মদ উবায়দুল্লাহ তারানগরী!০০ তুমি লিখেছো, ‘আমি আপনার অন্ধভক্ত! ভক্ত হওয়া কাম্য হলেও, অন্ধ হওয়া কিছুতেই কাম্য নয়। আমার দরকার এবং সবারই দরকার কিছু চক্ষুষ্মান ভক্ত।তুমি লিখেছো, ‘আপনাকে নিয়েই ভাবি এবং সেই ভাবনায় দেখি নিজের সফল সত্ত্বার ছবি। এখানে ¦ হওয়ার কথা নয়, যার অর্থ ব্যক্তি বা অস্তিত্ব। আরেকটা হলো সত্ত্ব, যার অর্থ বিদ্যমানতা। (অর্থ থাকা সত্ত্বেও কৃপণতা করা)। আরেকটা অর্থ ভ্রƒণ (অন্তঃসত্ত্বা)। আরেকটা হলো স্বত্ব, যার অর্থ মালিকানা। স্বত্বাধিকার। গ্রন্থস্বত্ব।‘বন্ধুর জন্য কাঁদে মন’ শিরোনামে তুমি লিখেছো, ‘এ বর্ষার ভোরে আলোর আড্ডায় পুলকিত নয়নে কুসুমকলির কাননে নীল আকাশের নীচে দাঁড়িয়ে ‘বন্ধুদিবস’০০ এগুলো কী ধরনের লেখা! ‘আলোর আড্ডা’ পদার্থটা আসলে কী? ‘পুলকিত নয়নে কুসুম কলির কাননে’ এরূপ কষ্টার্জিত ছন্দের কী প্রয়োজন? স্বাভাবিক ভাবে লিখলেই তো হয়। পুলিকত চোখ/চক্ষু /নয়ন গ্রহণযোগ্য নয়। পুলকিত দৃষ্টি হতে পারে। আসল ক্ষেত্রটি হচ্ছে পুলকিত হৃদয়। আর বন্ধুদিবস! তোমাকে যদি কেউ অনুসরণ করতে চায়, তার কাছে কী বার্তা যাবে এখান থেকে? তাহলে কি মাদরাসা মহলে ...ও শুরু হয়ে যাবে?!বন্ধুত্বের ‘এ জাতীয় চর্চা’, আর যাই হোক ইলমের জন্য, জীবনের সাধনার জন্য সহায়ক নয়। অন্তত আমাদের আকাবির বিষতুল্যই মনে করতেন। যাক, তিক্ত হলেও কথাগুলো বলে দিয়ে দায়মুক্ত হতে চাইলাম। আশা করি তুমি সতর্ক হবে।আব্দুল্লাহ শাকির,কিশোরগঞ্জতোমার বাগান করার চিন্তাটি খুবই প্রশংসনীয়। আমিও তোমার বয়সে বাগান করেছি, তবে সম্পূর্ণ নিজের চেষ্টায়। বাবাকে বলিনি, ‘আমাকে একটা ফুলবাগান করে দাও।’তুমি লিখেছো, আমার বাগানে ফুল হবে। চারদিকে ফুলের সুবাস ছড়াবে। প্রজাপতিরা উড়ে উড়ে আসবে। নানা রঙের প্রজাপতি; লাল, নীল, হলুদ, সাদা এবং ...। মৌমাছিরা আসবে ফুল থেকে রস নেয়ার জন্য, যা থেকে মৌচাকে তৈরী হবে মধু। বাগানে মানুষও আসবে। তাদের চোখ জুড়াতে। বিষণœ হৃদয়ে প্রষণœতা লাভের জন্য। আর আমী মালী হয়ে ...।দারুণ স্বপ্ন! কত সুদূর প্রসারী! ঠিক যেন, ডিম থেকে মুরগী হবে! মুরগি বিক্রি করে বাছুর হবে। বাছুর বড় হয়ে বিয়োবে। দুধ দেবে ...ইমরান খাঁন, বাইতুস-সালাম উত্তরা, ঢাকা।০০ খান সাহেব, প্রথম কথা হলো, এটা পাকিস্তান নয়, বাংলাদেশ! দ্বিতীয় কথা হলো, খান-এর দন্ত্য-ন যখন আস্ত রয়েছে তাহলে চন্দ্রবিন্দু কেন? হাঁ, খাঁ সাহেব হতে পারে।রম্যরচনা তোমার ভালো লাগে, শুনে খুশী হলাম। তুমি লিখেছো, ‘রসগোল্লা শুধু চোখে দেখে তুষ্ট নও, চেখেও দেখতে চাও। আচ্ছা দেখা যাক, কী করা যায়।তুমিই প্রথম যে, বললো, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগ তার বড় আগ্রহের বিষয়। ধন্যবাদ! কত ভালো হয়, তুমি যদি হতে পারো...!!প্রিয় ইয়াসীন আরাফাত,জামেয়া এমদাদিয়া, কিশোরগঞ্জ‘ঘাসফড়িং...’ লেখাটি, তোমার খুব ভালো লেগেছে শুনে খুশী হলাম। তুমি লিখেছো, তোমার পড়ার টেবিলে বিস্ময়করভাবে একটি ঘাসফড়িং উড়ে এসেছে! হয়ত সেই ঘাসফড়িং -এর খোঁজে। হয়ত এটি ঐটির সঙ্গী ছিলো। তোমার চিন্তা ভালো। লেখার ‘আন্দায’ও ভালো। বুঝতে পারি না, তোমরা ‘লিখা’ লেখার জন্য এত অবিচল কেন? লিখেছে, লিখবে, ঠিক আছে। কিন্তু লিখা নয়, লেখা, লিখক নয়, লেখক।তুমি জানতে চেয়েছো, ‘পুষ্পের চতুর্থ সংখ্যায় প্রচ্ছদের এক কোণে তিনটি খেজুর, আর পঞ্চম সংখ্যায় তিনটি বীচি, এর দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?’ কিছুই বোঝানো হয়নি। শুধু তোমাদের জন্য ইফতারের আয়োজন করা হয়েছে। আর বীচিগুলো সংরক্ষণ করা হয়েছে ভবিষ্যতের জন্য। আজকের বীচিগুলোই তো হবে আগামী দিনের সবুজ সজীব ও ফলবতী খেজুরবৃক্ষ।সম্পাদকের রোযনামচা তোমাদের লেখা শেখার ক্ষেত্রে উপকারে আসছে শুনে ভালো লাগছে। তবে তুমি যদি সুনির্দিষ্ট কোন একটি আলোচনা সম্পর্কেও উল্লেখ করতে যে, এটি তোমার উপকার করেছে তাহলে তোমার বক্তব্য তথ্যপূর্ণ হতো।রোযনামচা ১লা জুমাদাল উখরা, ৩৯ হি.রোববারপ্রতি হিজরী মাসের শেষে নতুন চাঁদ দেখা আমার অন্যতম প্রিয় অভ্যাস। জীবনের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কত কিছু এলো, আবার হারিয়েও গেলো। চাঁদই শুধু প্রতি মাসে আসে এবং নতুন হয়ে আসে। চাঁদও হারিয়ে যায়, কিন্তু ফিরে আসে। এমনকি প্রতি রাতে চাঁদের উদয় হয় নতুন আকৃতি ও নতুন আবেদন নিয়ে।সূর্যও আসে আমাদের জীবনে। প্রতি দিন উদয়-অস্তের সজীব ও বিষণœ দৃশ্য সঙ্গে করে। কিন্তু তাতে বৈচিত্র্য নেই, না আকারে, না আবেদনে। এজন্যই সূর্য সূর্য ছাড়া আর কিছু নয়, অথচ নতুন চাঁদ, অপূর্ণ চাঁদ এবং পূর্ণিমার চাঁদ। আরো আছে বিভিন্ন তিথি... দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, পঞ্চমি, শুক্লা দ্বাদশী! ৩/৬/৩৯ হি. মঙ্গলবারমানুষ মানুষকে এত কষ্ট দেয় কেন? আমার কাছে যা কষ্টদায়ক নয়, অথচ অন্যের কাছে কষ্টদায়ক, আর আমি তা জানি তাহলে আমার পক্ষে সঙ্গত হবে তার সঙ্গে ...!প্রতিটি মানুষেরই তো ধৈর্যের সীমা আছে। কারো কম, কারো বেশী! তো কারো কষ্টদায়ক আচরণ যদি সীমা ছাড়িয়ে যায় তখন শান্ত মানুষটিও বারুদের মত জ্বলে উঠতে পারে!! ৭/৬/৩৯ হি. শনিবারছাত্রভাইদের অনেকেই গতকাল ‘একুশে বইমেলা’ থেকে ঘুরে এসেছে। আজ তাদের মুখে শুধু সেই আলোচনা। কে কী দেখেছে এবং দেখেনি। কে কোন্ লেখকের অটোগ্রাফ শিকার করতে পেরেছে এবং পারেনি! ওদের মুখে শুনলাম...! নাহ যা শুনলাম, তা লিখে কলমের কালি আর...(সম্পাদক-বুঝতে কি আর বাকী থাকে, আমাদের তালিবানে ইলম এখন কীরূপ নিযামের ছায়ায় প্রতিপালিত হচ্ছে!!তালিবানের ইলমের অতীতের যে স্বাতন্ত্র্য ও স্বকীয়তার স্মরণে তোমার এ কান্না, কামনা করি, তা আবার যেন ফিরে আসে আমাদের সবার মাঝে।)১০ই রজব, ৩৯ হি. বৃহস্পতিকুয়াসার আবরণ কেটে গেছে অনেক আগে। সূর্যটা প্রখর রোদ ছড়াতে শুরু করেছে। কয়েক ঘণ্টার ছোট্ট একটি সফরের প্রস্তুতি নিয়ে বের হলাম।... পথটি ছিলো শীতলক্ষ্যার কূল ঘেঁষে। নদী সবসময় আমার মনকে উদাসী করে তোলে। ইচ্ছে করে, নিজেকে সঁপে দিই সময়ের অন্তহীন স্রােতের হাতে। বাড়ীতে যাওয়া- আসার পথে পদ্মায় বুকেও এই উদাস ভাবটা আমাকে আচ্ছন্ন করে রাখে। শীতলক্ষ্যার আগের রূপটি তো আর নেই, পদ্মারও না; তবু ...(সম্পাদক-আবরণ বা পর্দা কেটে যায় না, সরে যায়।আসা-যাওয়ার পরিবর্তে ‘যাওয়া-আসা’ লিখেছো সচেতনভাবেই! আমার ভালো লেগেছে।)১৭/৬/ ৩৯ হি. মঙ্গলজীবন আসলেই শিক্ষার একটি বিরাট পাঠশালা। ছোট-বড়, ধনী-গরীব, বিশিষ্ট -সাধারণ, সবার জীবন সম্পর্কেই একই কথা। যার জীবন তার জন্য তো বটেই, অন্য সবার জন্যও। আমার চারপাশে কত মানুষ! প্রতিদিন কত কিছু ঘটছে! আনন্দদায়ক এবং বেদনা-দায়ক; ক’টি ঘটনাই বা গভীর দৃষ্টিতে শিক্ষাগ্রহণের উদ্দেশ্যে লক্ষ্য করি! যতটুকু করি, ক’টিই বা তার মধ্যে মনে রাখতে পারি!! অন্যের জীবন থেকে না হোক, নিজের জীবন থেকে?! প্রতিদিন কত ভুল করি, কত ব্যর্থতার সম্মুখীন হই; জীবনের সব ভুল ও ব্যর্থতা থেকে শিক্ষাগ্রহণের কথা কি ভাবি! তাহলে তো প্রতিটি ভুলই হতে পারতে একটি ফুল!! জীবনের পাঠশালায় আমি হতে চাই একজন নিষ্ঠাবান ছাত্র। জীবনের পাঠশালা থেকে আমি চাই নিরন্তর কিছু না কিছু শিক্ষা গ্রহণ করতে। বারবার প্রতিজ্ঞা করি; বারবার ভুলে যাই। এভাবেই অতিক্রান্ত হচ্ছে আমার জীবনপাঠশালার প্রতিটি দিন!১৯/৬/ ৩৯ হি. বৃহস্পতিবারমাদরাসায় সারা দিন ভিতঢালাইয়ের কাজ হলো। আছরের পর তৃতীয় তলার জানালা দিয়ে দেখলাম কাজের দৃশ্য। এদেরই বলে ‘খেটে খাওয়া মানুষ’। কী কঠিন পরিশ্রম! সুরকি, বালু সিমেন্ট এনে ঢালাই মেশিনে ঢালছে। পরিমিত পানি ঢালা হচ্ছে। যে কোন সৃষ্টির আড়ালে রয়েছে পানির মৌলিক ভূমিকা। এর মধ্যে পানিটাই শুধু বিনামূল্যে প্রাপ্ত! যে লোকটি সিমেন্টের বস্তা মেশিনে ঢালছে তার অবস্থাটাই সবচে’ করুণ। সারাটা মুখে তার সিমেন্টের আবরণ! বস্তার মুখ খুলে যখন মেশিনে ঢালা হয়, ছোট্ট একটা বিস্ফোরণের মত সিমেন্টের ‘অণু’ ছড়িয়ে পড়ে। তাতে প্রথম আক্রান্ত হয় এই অসহায় শ্রমিক। পথে সামান্য ধূলো থেকে আত্মরক্ষার জন্য আমরা মুখে রুমাল ধরি। অথচ এই মানুষটি! আহা, বেচারা! প্রতি দশমিনিটে একটা করে ছোট্ট ‘ধূলিঝড়ের’ মুখোমুখি হচ্ছে! বাঁচার কোন উপায় নেই। এমনই হয় গরীবের পেটের দায়। পেটের জন্যই স্বাস্থ্যের এত বড় ঝুঁকি নিতে হচ্ছে।এই যে, আজ শ্রমিকদের এত ঘাম ঝরলো, সবই মাটির নীচে চাপা পড়ে যাবে। এখানে আলিশান ইমারত তৈরী হবে। যাদের ঘাম ঝরেছে তারা কিন্তু এখানে থাকার অধিকার পাবে না, একটি দিনের জন্যও না। ভাবতে কষ্ট হয়।(সম্পাদক- তোমার এ ভাবনা তখনই প্রাণ-সজীবতা লাভ করবে, যখনই সুযোগ হয়, যদি সাধ্যমত তুমি কোন না কোন গরীবের দুঃখ-কষ্ট লাঘবের চেষ্টা করো। শুধু কথা এবং শুধু ভাবনা দিয়ে তো সংসারের কোন একজন গরীব-দুঃখীর সামান্য কষ্টও দূর হবে না। শুধু ‘সুন্দর’ ও নির্দয় একটি লেখা তৈরী হবে। ২৩/৬/৩৯ হি.সোমবারবাংলাভাষায় ইংরেজি শব্দের আগ্রাসন এখন চরম আকারই ধারণ করেছে। আঙ্কেল-আন্টি এখন বাসি শব্দ! মূর্খ মানুষের মুখেও দিব্বি জায়গা করে নিয়েছে। এখন চলছে ডেড-মাম্মাীর রমরমা মৌসুম। তাও না হয় মুখ বুজে/কান বুজে মেনে নেয়া গেলো। কিন্তু ‘ইসলামী লেখক’ হজ্বের মাসআলায় লিখছেন, ‘নন মাহরাম’! বলি, এরই নাম কি ‘ইসলামী কলিকাল!!’ ...২৪/৭/৩৯ হি. মঙ্গলবারগত রাতের শেষ প্রহরে প্রতীক্ষার যে মধুর স্বপ্নটি দেখলাম, কখনো কি তা বাস্তব হতে পারে না! স্বপ্ন ও বাস্তবতার মাঝে পার্থক্যরেখাটি...!