জীবনের কোন সঙ্কটে ও দুর্যোগে পৃথিবীর সকল জাতি ও সম্প্রদায় তাদের জ্ঞানী, গুণী, প্রজ্ঞাবান এবং বিজ্ঞ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের শরণাপন্ন হয় এবং আশা ও বিশ্বাস নিয়ে তাদেরই দিকে তাকিয়ে থাকে যে, সমস্যার সঠিক প্রকৃতি ও গভীরতা তারাই বুঝতে পারবেন এবং সমাধানও তারাই দিতে পারবেন।
জ্ঞানী, গুণী ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিগণ জাতি ও সম্প্রদায়ের সঙ্কটকালে এগিয়ে আসেন এবং আপন জনগোষ্ঠীর আশা ও ভরসার স্থান থেকে ভূমিকা গ্রহণ করেন। সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন এবং সমাধান নির্ধারণ করেন। তাদের সমাধান কখনো জাতির জন্য সঙ্কট উত্তরণে সহায়ক হয়, কখনো সমস্যাকে আরো জটিল করে তোলে। যে কোন মানবীয় চিন্তা ও পদক্ষেপের এটাই হলো স্বাভাবিক পরিণতি।
উম্মাতে মুহাম্মাদিয়্যার বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এ উম্মাহকে সমস্যাও বুঝতে হবে আল্লাহর কালাম কোরআনের কাছ থেকে, সমাধানও গ্রহণ করতে হবে সেখান থেকে।
কোরআন এই উম্মাহর সঠিক অবস্থান ও মর্যাদা নির্ধারণ করে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছে, ‘তোমরাই হলে খায়রে উম্মাহ (শ্রেষ্ঠ জাতি), যাদের উত্থান ঘটানো হয়েছে মানবের কল্যাণের জন্য। তোমরা উত্তম বিষয়ে আদেশ করবে এবং মন্দ বিষয়ে বাধা দেবে, আর আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখবে। ...
বিশ্বের সকল জাতি ও জনগোষ্ঠীর মাঝে উম্মাহর এই যে দায়িত্বগত অবস্থান ও মর্যাদা, এ আলোকেই তাদের চিন্তা করতে হবে সমস্যা ও সমাধান। পুরো উম্মাহ একত্র হয়েও এই নির্ধারিত সীমার বাইরে যাওয়ার অধিকার রাখে না। (আবু তাহের মিছবাহ)