মুহররম.১৪৪০হিঃ (৩/৬)

কচি ও কাঁচা

এক ছোট্টমণির ছোট্টচিঠি!

শেয়ার করুন:     
প্রিন্ট

০ সম্পাদক ভাইয়া! আমার না একটা কলম ছিলো। কলমটা দিয়ে, বড় আপুর খাতার পাতাগুলো ছিঁড়ে ছিঁড়ে কিচ্ছু লিখতাম না, আঁকতাম শুধু ছবি! তখন লিখতে জানতাম না তো!০০ আহা রে! খাতার পাতাগুলো ছিঁড়েই ফেলতে!! তা বড় আপু কিছু বলতো না, পিঠে দুম দুম কিলটিল দিতো না?! ০ বড় আপু তখন ছিলো খুব ভালো। কিচ্ছু বলতো না। আদর করে শুধু বলতো, আবার ছিঁড়ো না।‘না’টা আমি আবার পরিষ্কার শুনতে পেতাম না! তাতেই বেঁধে যেতো গোলমাল। ০০ তা বড় আপুটা তো ভালো ছিলো! গোলমাল হতো কেন!?০ বড় আপু খাতাটা কোথায় যেন লুকিয়ে রাখতো। আমি জুড়ে দিতাম কান্না। আম্মু এসে বড় আপুকে দিতেন বকা! বলি, ছোট্ট মেয়েটিকে কাঁদাও কেন? ০০ তারপর! বেশ মজার গল্প তো তোমাদের!!০ বড় আপু তখন কী করতো? কী আর করবে! মুখ ভার করে বসে থাকতো। আমার খুব মায়া হতো।আদর করে বলতাম, আচ্ছা, আপু, তোমার খাতার পাতাগুলো আর ছিঁড়বো না। এখন থেকে দেয়ালে ছবি আঁকবো! ০০ এই সেরেছে! এখন তো খাবে আম্মুর বকা! তখন হবে কেমন মজা!!০ কিন্তু ছবি আঁকবো কী দিয়ে?! কলমটাই যে গেলো হারিয়ে!! সম্পাদক ভাইয়া, আপনার কলমটা...০০ আমার কলমটা তো আগেই এসে নিয়ে গেছে পাশের বাড়ীর মেয়েটা। ওর আবার ভুলে গিয়েছি নামটা!একছোট্টমণিরছোট্ট চিঠি!০ সম্পাদক ভাইয়া! আমার না ছোটকালে টিয়ে পাখী পোষার খুব শখ ছিলো।০০ ছোট্ট মণি, তোমার ছোটকালটি কি এখন নেই?! কোথায় গেলো! ডেকে আনো না আবার!!০ বড় আপু বলে কী, খাঁচার মধ্যে পাখীকে বন্দী করে রাখলে পাখীর কষ্ট হয়, অনেক গোনাহ হয়।গোনাহ হবে কেন বলেন তো! আমি  তো বন্দী করে রাখবো না, বন্ধু করে রাখবো!০০ তাই তো, বড় আপুটা যেন কী!!০ পাখীটার কষ্ট হবে কেন? আমি তো দানা দেবো, পানি দেবো, কথা শেখাবো?!০০ আমি না, একটা সোনার খাঁচা বানাবো। তোমাকে ঐ সোনার খাঁচার মধ্যে রাখবো!না না, বন্দী করে না, বান্ধবী করে!!তোমার কিচ্ছু কষ্ট হবে না। সকাল বিকাল খাওয়াবো শুধু দুধ-ভাত! আর শেখাবো সুন্দর একটা ছড়া, ‘আয় রে আমার টিয়ে/আজ হবে তোর বিয়ে/ সাজবি তুই ঘোমটা মাথায় দিয়ে/বর আসবে পাল্কী নিয়ে ...কেমন মজাহবে বলো তো!!০ সম্পাদক ভাইয়া, আব্বুকে বলে দেন না, একটা টিয়ে এনে দিতে!!০০ তোমার আব্বুটা যে কী! আমি বলি, ছোট্ট মণিকে এনে দিন টিয়ে; তোমার আব্বুটা বলে কী, আচ্ছা, ছোট্ট মণিকে দিয়ে দেবো বিয়ে!কানে কম শোনে বুঝি!যাকগে, তুমি চট করে আমার কাছে এসে পড়ো। আসবে কীভাবে! সে তো খুব সোজা! তুমি ঘুমিয়ে থাকবে, ফুলপরীরা নিয়ে আসবে!

আজ দরসে হুযূর আমাদের খুব সুন্দর সুন্দর নছীহত করেছেন। হুযূর বলেছেন, আল্লাহ আমাদের, মাদরাসায় এনেছেন দ্বীনের ইলম হাছিল করার জন্য। এটা আমাদের প্রতি আল্লাহর কত বড় দয়া! তোমাদের মত কত ছেলে মাদরাসায় আসার, ইলম শেখার সুযোগ পায় না; আল্লাহ তোমাদের সুযোগ দিয়েছেন। তোমাদের মত কত ছেলে নামায জানে না, কোরআন জানে না...এখন চিন্তা করে দেখো, আমাদের কি কর্তব্য নয়, আল্লাহর শোকর আদায় করা এবং খুব মেহনত করে দ্বীনের ইলম হাছিল করা, তারপর ইলম অনুযায়ী আমল করা!হুযূরের নছীহত আমার খুব ভালো লেগেছে। আমি প্রতিজ্ঞা করেছি, সারা জীবন হুযূরের নছীহতের উপর আমল করবো। সারা জীবন আমি ইলম হাছিল করবো এবং ইলম অনুযায়ী আমল করবো। ওমরফারূক/মাদরাসাতুল মাদীনাহ


শেয়ার করুন:     
প্রিন্ট

অন্যান্য লেখা