পুষ্পের সঙ্গে আমার একটা সাধারণ অবস্থা এই যে, যখন প্রথম কথা লিখি তখন মনের মধ্যে একটা আশাবাদ কাজ করে। তখনো অনেক সমস্যা থাকে এবং থাকে বিভিন্ন রকমের প্রতিকূলতা ও জটিল পরিস্থিতি। কিন্তু কেন জানি এগুলো তখন চিন্তার বহির্জগতেই থাকে, চিন্তার অন্তর্জগতে খুব একটা অনুপ্রবেশ করতে পারে না। তখন অন্ধকারের মধ্যেও আলোর একটা রেখা আমাকে যেন অনুপ্রাণিত করে। ভিতরের এ উদ্দীপনা সামান্য হলেও একটা শক্তি যোগায় যে, এখনো ভালো কিছু হতে পারে! সময় যত নির্মম হোক, শুভ ও শুভ্র এখনো হতে পারে জীবনের শোভা! কারণ এখনো আকাশ থেকে শিশির ঝরে! এখনো ঘরে ঘরে শিশুর হাসি ও কান্না শোনা যায়!যখন ‘শেষ কথা’ লিখতে বসি, যেমন এখন- একটা হতাশা যেন আমাকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। তখন আলোর মধ্যেও যেন অন্ধকারের একটা ছায়া আমাকে অস্থির করে রাখে। তখন প্রতিটা সমস্যা ও প্রতিকূলতা আমার চিন্তার অন্তর্জগতে শুধু অনুপ্রবেশ করে না, একটা ভয়ঙ্কর তোলপাড়ও সৃষ্টি করে। তখনো হয়ত আকাশ থেকে শিশির ঝরে; আমি তার স্পর্শ অনুভব করতে পারি না। তখনো হয়ত শিশুরা হাসে এবং কাঁদে; আমি শুনতে পাই না।এবার প্রথম কথাটি লেখার আগের দিন, দেখি আমার এক তালিবে ইলম এক বৃদ্ধকে হাতে ধরে রাস্তা পার করে দিচ্ছে। অনেক অন্ধকারের মধ্যেও মনে হলো, আলোর একটা রেখা দেখতে পেলাম এবং প্রথম কথাটি লিখলাম।আজ সন্ধ্যায় শুনলাম আমার এক তালিবে ইলম মিথ্যা বলেছে, অসুস্থ বাবাকে দেখতে যায়নি, অথচ...! অনেক আলোর মধ্যেও মনে হলো অন্ধকারের ছায়া!এভাবেই আশা ও হতাশার মধ্যে আমার শুরু এবং ...! মিথ্যা, তাও বাবার অসুস্থতার নামে!! কামনা করি, ছেলেটির জীবন থেকে মিথ্যার অভিশাপ যেন মুছে যায়, আর সত্যের অনির্বাণ আলো যেন উদ্ভাসিত হয়।আজকের এ লেখাটির জন্য ছেলেটিকে আমার চিরকাল মনে থাকবে এবং তার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ থাকবো, কিন্তু ...!!আমার উপকার করে সে কতটা লাভবান হলো?!