রজব ১৪৩৯ হিঃ (৩/৩)

কিশোর পাতা

কিশোর পাতা - ২

শেয়ার করুন:     
প্রিন্ট

সেই লেখার প্রতীক্ষায়!!

প্রতিদিন লিখতে বসি, কিছু না কিছু লেখা হয়, কিন্তু আমি প্রতীক্ষায় থাকি এমন একটি লেখার, যার সৌরভে আমার জীবন, আমার চারপাশের সবার জীবন সুরভিত হবে!!

কিন্তু আমার কলমে এমন একটি লেখার দেখা এখনো পেলাম না। আমার চাওয়ায়, আমার আকাক্সক্ষায়, আমার সাধনায় এবং মিনতি ও আত্মনিবেদনে নিশ্চয় কোন ত্রুটি ও অসম্পূর্ণতা রয়েছে!! কারণ দাতার দানের ইচ্ছায় তো কোন কার্পণ্য নেই! তিনি তো প্রসারিত প্রতিটি আঁচলেই দান করেন!!

আজ এই নির্জন রাতে আমি বসে আছি ব্যাকুল হৃদয়ে প্রতীক্ষার দহনে দগ্ধ হয়ে, ঐ রকম একটি লেখা ‘আকাশ’ থেকে পাওয়ার জন্য। নির্জনে নীরব প্রতীক্ষায় বসে আছি এ আশায়, যদি আমার স্বপ্নের সেই লেখাটি আকাশের অদৃশ্য থেকে নেমে আসে! আসতেও তো পারে!

কিন্তু প্রতীক্ষার প্রহর আমার শেষ হয় না! বহু কাক্সিক্ষত স্বপ্নের সেই লেখাটি আমার কলমের ‘ঝর্ণা’ বেয়ে নেমে আসে না! আকাশে তারারা জ্বল জ্বল করে, কিন্তু আমার হৃদয়ের আকাশে সেই লেখাটির দীপ জ্বলে না। তবু আমি ব্যাকুল প্রতীক্ষায় বসে আছি, বসে থাকবো। আমার বুকের স্নিগ্ধ কোমল মিনতি আমি তাঁকে নিবেদন করেই যাবো। যখন কলমের সঙ্গে কলবের বন্ধন তৈরী হবে, দোয়াতের কালির সঙ্গে চোখের পানির মিশ্রণ ঘটবে তখন, পরম সৌভাগ্যের সেই শুভলগ্নে ভোরের শিশিরের সঙ্গে আকাশ থেকে হয়ত সেই লেখাটি, আমার প্রিয় লেখাটি নেমে আসবে। নেমে আসবে কলমের মুখ বেয়ে কগাজের বুকে।

-আমানাতুল্লাহ

কী মূল্য মানুষের যদি ...!

একটুকরো বরফ! শুভ্র সুন্দর! কিন্তু ধীরে ধীরে গলে যাচ্ছে। এই শুভ্রতা ও সৌন্দর্যের মূল্য কী, যদি শীতলতা দিতে না পারে! যদি গলে গলে শেষ হয়ে যায় তার আগেই!!

একটি মোমের বাতি! কী সুন্দর তার আলো! নির্জন রাতে আলো দেয়, আর গলতে থাকে  ফোঁটা ফেঁটা!!

কী মূল্য এই স্নিগ্ধ আলোর যদি তা কারো কাজে না আসে!! তার আগেই যদি গলে গলে শেষ হয়ে যায়!!

গাছের ডালে একটি ফুল!! কী সুন্দর বর্ণ, কী অপূর্ব তার সুবাস!! কিন্তু দু’দিনেই ঝরে যায়, শুকিয়ে যায়, মাটিতে মিশে যায়!!

কী মূল্য এই সুবাসের, এই বর্ণসৌন্দযের যদি কাউকে না দিতে পারে সুবাস-আনন্দ! যদি কোন হৃদয় আন্দোলিত না হয় তার বর্ণসৌন্দর্যে?!

তার আগেই যদি ঝরে যায়, শুকিয়ে যায়!!

পৃথিবীর আলো-বাতাসে জীবন-ধারণকারী একজন মানুষ! তার বুকে কত স্বপ্ন, কত আশা, কত ভালোবাসা!! কিন্তু সে ফুরিয়ে যায় কালের স্রোতে, শৈশব থেকে যৌবনের ঔজ্জ্বল্যে, তারপর বার্ধক্যের ছোবলে!!

কী মূল্য এই সুন্দর জীবনের, সুন্দর স্বপ্নের! এই আশা ও ভালোবাসার, যদি তা নিবেদিত না হয় মানবতার কল্যাণে!! তার আগেই যদি এসে যায় তার কাফনের কাপড়!! *

আরামের ঘুমটা ভেঙ্গে গেলো যাত্রিদের শোরগোলে। কী হয়েছে, মাঝ রাতে মাঝ নদীতে কেন এ হট্টগোল, কিছুই বোঝা গেলো না। জাহাযটা কী থেমে আছে, না চলছে, তাও বুঝতে পারছি না। আসলে ঘুমের ঘোরটা ভালোভাবে কাটেনি তখনো।

একটু পরে বোঝ গেলো, ঝড়ের কবলে পড়েছে! আগে আল্লাহর বান্দারা, এমনকি অমুসলিমরাও ঝড়ে বিপদে আল্লাহকে ডাকতো, এখন শুধু ডাকাডাকি করে। আগে আমাদের ‘বর্তমান’ কত সুন্দর ছিলো! সেই সুন্দর বর্তমান, বা বর্তমানের সেই সৌন্দর্য এভাবেই অতীত হয়ে যাচ্ছে।

অযু করে নামাযে দাঁড়ালাম। যদি ডুবে যায়, তখন আমি যেন নামাযের মধ্যেই ডুবে থাকি...

আল্লাহর রহমতে ঝড় থেমে গেলো। তবে মানুষের কথার ঝড় থামছে না। এরই মধ্যে আমার ক্লান্ত চোখদু’টো লেগে এলো। স্বপ্নে দেখি, গ্রামের পথ দিয়ে হেঁটে আমি বাড়ীতে মায়ের কাছে গিয়ে হাজির! মা তো অবাক, মানিক, তুমি জাহাযে ওঠো নাই?!

মায়ের একটু আদর নিতে যাবো, চোখটা খুলে গেলো, পাশের যাত্রী আমাকে ঠেলে শোয়ার জায়গা করতে চায়! মেজাজটা একটুও তেতে উঠলো না। শান্তভাবে বসলাম, ‘আপনি শুতে পারেন।’ নিজেকে তখন মনে হলো বৃষ্টিভেজা/বৃষ্টিস্নাত,

(হে লেখা, তুমি কার?)

শেয়ার করুন:     
প্রিন্ট

অন্যান্য লেখা